নিজস্ব প্রতিবেদক | স্বাধীন প্রতিদিন
দশ দলীয় জোট ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই ভাঙনের সুর নয়, তবে শুরু হয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। জোটের প্রধান দুই শক্তি—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে আসন বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘শীতল স্নায়ুযুদ্ধ’।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, জোট গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে জামায়াতের একক আধিপত্য ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে আট দলীয় জোটের বাইরে নতুন দল যুক্ত করার ক্ষেত্রে জামায়াত অনেকটা একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তাদের দাবি।
আসন বণ্টনেই মূল দ্বন্দ্ব
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আসন বণ্টন নিয়ে। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘আকাঙ্ক্ষিত’ আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলটির তৃণমূল নেতাদের মতে, জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানে ফয়জুল করীমের সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনায় তাকে এসব আসনে বিশেষ ছাড় দেওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ সরাসরি অভিযোগ না তুলে জোট রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের আমির এই ‘বহু দলের একক বাক্স’ নীতির প্রবক্তা। আমরা জোটের সফলতা চাই। যেহেতু এখনও সময় আছে, যে কোনো মনোমালিন্য দূর করতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।”
জামায়াতের অস্বীকার ও ছাড়ের আশ্বাস
সব অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জোটের সব সিদ্ধান্ত সমন্বিত পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে এবং জোটের স্বার্থে জামায়াত শেষ পর্যন্ত সব ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সৈয়দ ফয়জুল করীমকে এরইমধ্যে বরিশালের একটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরেকটি আসনেও আগ্রহী বলে শুনেছি, যা দ্রুতই সমাধান করা হবে। এখানে কেউ কারো বড় ভাই নয়, সবার অবদান সমান।”
বাড়ছে জোটের পরিধি, যোগ দিতে পারে এবি পার্টি
অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মধ্যেই জোটের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হওয়ার পর এবার মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন ‘এবি পার্টি’ (আমার বাংলাদেশ পার্টি) জোটে যোগ দিতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “নতুন একটি দল যুক্ত হচ্ছে। একটু রহস্য না হয় থাকুক—আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় জোট গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের আসনকেন্দ্রিক বিরোধ স্বাভাবিক। তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে এই অস্বস্তি দ্রুত নিরসন না হলে ভোটের মাঠে তার প্রভাব পড়তে পারে। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যে ‘বৃহত্তর ঐক্যের’ ডাক দেওয়া হয়েছে, তা টিকিয়ে রাখাই এখন এই জোটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন