বিশেষ প্রতিবেদন | স্বাধীন প্রতিদিন
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তির দেশে ফেরা নয়; বরং এটি একটি রাজনৈতিক ধারার পুনঃসক্রিয়তা, বহুদিনের অপেক্ষার অবসান এবং পরিবর্তনমুখী এক সময়ের ইঙ্গিত বহন করছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যেমন ব্যাপক কাভারেজ দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এটিকে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতির জন্য একটি “টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ নির্বাসনের পর তাঁর ফিরে আসা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভারসাম্য ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের আবেগ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস
তারেক রহমানের আগমন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল, স্লোগান ও সমাবেশে তা স্পষ্ট। দীর্ঘদিন নেতৃত্বশূন্যতা ও দিকনির্দেশনার অভাব যাঁরা অনুভব করছিলেন, তাঁদের কাছে এই প্রত্যাবর্তন নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
অনেক নেতাকর্মীর ভাষায়, “দল আবার অভিভাবক ফিরে পেয়েছে।” তবে আবেগের এই জোয়ারকে সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
জনগণের প্রত্যাশা: গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার
সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে প্রত্যাশার তালিকাও দীর্ঘ। গণতন্ত্রের কার্যকর চর্চা, সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—এসব বিষয়ে একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা মানুষ দেখতে চায়।
একই সঙ্গে জনগণ এটাও প্রত্যাশা করে যে, অতীতের বিতর্ক ও অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল ও জনমুখী রাজনৈতিক নেতৃত্বের চর্চা হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও নেতৃত্বের ভার
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা দলের রাজনীতিতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সরাসরি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন সীমিত হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলীয় নেতৃত্বে একটি বাস্তব ও প্রয়োজনীয় রূপান্তর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, মায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের উত্তরাধিকার বহন করে তারেক রহমান এখন শুধু দলের নয়, বরং একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
জুলাই বিপ্লব: পরিবর্তনের পটভূমি
সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত এই আন্দোলন ক্ষমতা, জবাবদিহি ও ন্যায়ের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে হওয়ায়, অনেকেই এটিকে পরিবর্তনমুখী ধারার সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ হিসেবে দেখছেন।
তবে এখানেই চ্যালেঞ্জ—জুলাই বিপ্লব যে নৈতিকতা, শুদ্ধতা ও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে, তা রাজনৈতিক দলগুলো কতটা ধারণ করতে পারবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: দলীয় শৃঙ্খলা ও সংস্কার
তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলে বিভক্তি, গ্রুপিং, অনুপ্রবেশকারী ও সুযোগসন্ধানীদের উপস্থিতি বেড়েছে—এমন অভিযোগ বহুদিনের।
দলকে পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, বিতর্কিত ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারী আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনা—এসব কাজই এখন সময়ের দাবি।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি যেমন বিএনপির জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে, তেমনি বাড়িয়ে দিয়েছে দায়িত্ব ও প্রত্যাশার ভার। আবেগের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে যদি তিনি শৃঙ্খলা, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেন, তবে এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি দলের নয়—বরং পুরো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন