খুলনা প্রতিনিধি | স্বাধীন প্রতিদিন
অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, সমাজবিরোধী চক্র ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে খুলনা মহানগরী ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খুন, গুলিবর্ষণ, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তার—এসব ঘটনা এখন খুলনার নিত্যদিনের বাস্তবতা। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে দলের অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী—পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে। তার অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে এখনও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে এবং ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে—নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কমিশনের।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ শেখও একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি সন্ত্রাসী তৎপরতা, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বিএনপির সাবেক খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “জনগণই আমাদের পাহারাদার।” খুলনায় অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব করে আর পার পাওয়া যাবে না।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, সন্ত্রাসীদের কারণে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। খুন, কুপিয়ে জখম, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ১৫ মাসে খুলনা মহানগরী এলাকায় ৪৪টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে জেলার ৯টি উপজেলায় ঘটেছে আরও ৬২টি হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে নদীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে অর্ধশতাধিক লাশ, যার বেশিরভাগই পরিচয়হীন।
এই বাস্তবতায় খুলনায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নির্ভীক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে কি না—তা নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি প্রার্থীদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন