কলাপাড়া (পটুয়াখালী), প্রতিনিধি | স্বাধীন প্রতিদিন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের তিনদিন পর খালের চরে পুঁতে রাখা অবস্থায় ফেরদৌস মুন্সি (৩৮) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (দুপুর ১টার দিকে) উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালি গ্রামের সাপুড়িয়া খালের পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফেরদৌস মুন্সি ওই গ্রামের রহমান মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অসুস্থ বাবাকে দেখে বাড়ি থেকে বের হন ফেরদৌস। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
রোববার সকালে সাপুড়িয়া খালের চরে নতুন করে মাটি কাটার চিহ্ন দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা মাটি সরাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে ফেরদৌস মুন্সির মরদেহ বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহের গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো ছিল এবং পরনে ছিল একটি শর্টপ্যান্ট ও একটি গেঞ্জি। এছাড়া তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়।
কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরদৌস মুন্সিকে গলায় লাইলনের রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ গুম করতে খালের চরে মাটি চাপা দেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—নিখোঁজ হওয়ার পর এত অল্প সময়ের মধ্যে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা কেন করা হলো? নিহতের হাতের আঙুল কেটে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন অনেকে। পুলিশের একটি সূত্রের ধারণা, ব্যক্তিগত শত্রুতা, পূর্ববিরোধ, অথবা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনো দ্বন্দ্ব থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত অগ্রগতি ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা আরও জানান, শান্ত স্বভাবের ফেরদৌসের সঙ্গে কারও বড় ধরনের বিরোধ ছিল বলে তারা জানেন না। এ কারণেই ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজের সময় থেকে তার গতিবিধি ও শেষ কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন