খুলনা প্রতিনিধি | স্বাধীন প্রতিদিন
খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ও পরে ‘আইডি হ্যাক’ অজুহাতকে সরাসরি মিথ্যাচার বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পর সমালোচনার মুখে পড়ে ওই দল জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলছে। আইডি হ্যাক হয়নি, এটি নিজেদের স্বার্থে মানুষের সামনে অসত্য তুলে ধরার কৌশল।
সোমবার খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে তিনি নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য, ধর্মের অপব্যবহার, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা প্রকাশ্যে কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশে এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। পরে সমালোচনা শুরু হলে তারা দাবি করছে আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যা বলে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করেছে।
নারীবিদ্বেষী রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছে তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রেখে কোনো দেশ এগোতে পারে না। যারা নারীদের অসম্মান করে এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী নারী। যারা আজ নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করছে, তারা কীভাবে ইসলাম কায়েমের কথা বলে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই দেশের লাখ লাখ মা-বোনকে একাত্তরে অসম্মানিত করেছিল ওই দলের পূর্বসূরি নেতারা। যে দলের নেতা নিজ দলের নারী কর্মীদেরও অপমান করতে পারে, সুযোগ পেলে তারা সাধারণ নারীদের কী অবস্থায় ফেলবে তা সহজেই অনুমেয়।
খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে বন্ধ কারখানা চালু করে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে পরিণত করা হবে, যেখানে নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু, সার-বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য করা এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, একটি মহল বলছে ভোট গণনায় সময় লাগবে। এখান থেকেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। যারা সকাল-বিকাল মিথ্যা বলে এবং নারীদের অপমান করে, তারাই নির্বাচন নিয়ে ছলচাতুরি করছে। তিনি সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দল-মত নির্বিশেষে জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এবার সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় এসেছে।
দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, একমাত্র বিএনপিরই দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সরকার গঠন করলে প্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল ভোটারকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। বক্তব্য রাখেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আসগার লবি, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, আমির এজাজ খান, মনিরুল হাসান বাপ্পী, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, মনিরুজ্জামান মনি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
সঞ্চালনায় ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা কারী আবু নাঈম এবং গীতা পাঠ করেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন