আন্তর্জাতিক ডেস্ক | স্বাধীন প্রতিদিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘সীমিত আঘাত’ ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ—যেখান থেকেই আসুক বা যে মাত্রারই হোক—তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সাবেক সেক্রেটারি এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ কৌশলগত উপদেষ্টা আলী শামখানি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “‘সীমিত আঘাত’ ধারণাটি একটি ভ্রান্তি। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধের শুরু হিসেবে দেখা হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে “তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ এবং অভূতপূর্ব”, যা তেল আভিভসহ হামলাকারী ও তাদের সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করবে।
একই ধরনের দাবি করেছেন ইরানের এক সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারের উপদেষ্টা ও বিশ্লেষক মোস্তফা নাজাফি। তার মতে, গত দুই সপ্তাহে ইরান দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পেয়েছে—একটি ওয়াশিংটন থেকে এবং অন্যটি তেল আভিভ থেকে।
নাজাফির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বার্তায় ইরানকে ‘সীমিত আঘাত’ সহ্য করে কেবল প্রতীকী প্রতিক্রিয়া জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের ‘যুদ্ধের নিয়ম’ পুনর্নির্ধারণ করেছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলাকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানায় যে তারা সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানে সরাসরি অংশ নেবে না এবং ইরানের কাছে অনুরোধ করে যাতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়া হয়। তবে নাজাফির দাবি, ইরানের জবাব ছিল স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসরায়েলকে ইরানের প্রতিক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও এই বার্তা বিনিময়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া ইরান আঞ্চলিক দেশগুলো—আজারবাইজানের বাকু থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ পর্যন্ত—সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেসব দেশও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
নাজাফির দাবি অনুযায়ী, এই সতর্কবার্তাগুলোই চলতি মাসের শুরুতে পরিকল্পিত মার্কিন হামলা শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ার অন্যতম কারণ। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে—যার উদ্দেশ্য প্রতিরোধ শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
উপসংহারে নাজাফি বলেন, ইরান কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক জবাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সংঘর্ষ শুরু হলে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বিস্তৃত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন