ক্যাম্পাস প্রতিনিধি | স্বাধীন প্রতিদিন
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) এক বিতর্কিত শিক্ষককে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক হলেন , যিনি অতীতে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন।
জানা গেছে, বাছির আহমেদ একসময় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। সে সময় তিনি -কে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের গডফাদার’ আখ্যা দিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত ব্যানার হাতে তার মিছিলে অংশ নেওয়ার ছবি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগ কোটায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাধ্যমে তিনি দলীয় আনুগত্যের নজির স্থাপন করেন। এছাড়া ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি আন্দোলনে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তালিকা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে বাছাই কমিটির আয়োজিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য চিঠি পেয়েছেন বাছির আহমেদ। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিক্ষুব্ধদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হলেও বাছির আহমেদ ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট (টেকনিক্যাল সাবজেক্ট) বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ওশানোগ্রাফি (নন-টেকনিক্যাল সাবজেক্ট) বিভাগে যোগদান করেন। পরে তার নিয়োগ বৈধ করার জন্য সাবেক রেজিস্ট্রার -এর সহযোগিতায় তাকে ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বেতন কাঠামোরও অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাছির আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, “নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করি। প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা বা অভিযোগ যাচাইয়ের দায়িত্ব কমিটির। ভিসির নির্দেশে আমি চিঠি ইস্যু করেছি।”
এদিকে, দ্রুত এ পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন মহল।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন