স্টাফ রিপোর্টার | স্বাধীন প্রতিদিন
খুলনা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।
দায়িত্ব হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, স্থবির হয়ে পড়া জেলা পরিষদগুলোকে সচল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে খুলনা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আবারও গতিশীল হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে এই নিয়োগ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। কিছুদিন আগে তাকেও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন সবাই মিলে খুলনা মহানগরী ও জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু।
নবনিযুক্ত প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অচল হয়ে পড়া জেলা পরিষদকে সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিচালনা করে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খুলনা জেলা পরিষদ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সমালোচিত ছিল। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন। দায়িত্ব পালনে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাঁদের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং দেশ-জাতির সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী জুলু, মো. তৈয়েবুর রহমান, এস এম শামীম কবির, গাজী তফসির আহমেদ ও অধ্যক্ষ মনিরুল হক বাবুল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, এস এ রহমান বাবুল, চৌধুরী কাওসার আলী, আশরাফুল আলম নান্নু, শেখ আজগর আলী, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, মনিরুজ্জামান লেলিন, আব্দুল মালেক, আশরাফুল ইসলাম নূর, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. গাজী আব্দুল মজিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন, রূপসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোল্লা সাইফুর রহমান, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমীন বাবুল, পাইকগাছার শাহাদাত হোসেন ডাবলু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী প্রমুখ।
খুলনা জেলার নয়টি উপজেলা ও দুটি পৌরসভার বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আসগর লবির পক্ষ থেকেও তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পরে তিনি জেলা পরিষদের নির্ধারিত কক্ষে বসে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন