ক্যাম্পাস প্রতিনিধি | স্বাধীন প্রতিদিন
তিন দফা দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের ছাত্র জাহিদুর রহমান। দাবি মানা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অথবা উচ্চ আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুর রহমান এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে জাহিদুর জানান, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুৎসামূলক পোস্ট করার অভিযোগ তুলে কুয়েট ছাত্রলীগের নামধারী ক্যাডাররা তার ওপর টানা পাঁচ ঘণ্টা বর্বর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, কুয়েট প্রশাসন উল্টো তাকে ফাঁসাতে বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে।
তিনি বলেন, “১৫ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে আমাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও ৫২ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। ২ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পাই। এরপর বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানালেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রায় দুই বছর আমার শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।”
জাহিদুর জানান, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে সক্ষম হন এবং তার ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচার চেয়ে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কুয়েট প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ পাঁচ মাস তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি ১৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, যার মধ্যে ১০ জনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। আমি এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই ঘটনার মূল কারিগর তৎকালীন ভিসি মিহির রঞ্জন হালদার, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ইসমাইল সাইফুল্লাহ, হল প্রভোস্ট হামিদুল ইসলাম, সহকারী হল প্রভোস্ট সুনন্দ দাসসহ অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতির ভাই এবং কুয়েটের বর্তমান সিকিউরিটি ইনচার্জ সাদেক হোসেন প্রামাণিক—যিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার বাদী ছিলেন—তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দুইজন হল প্রভোস্ট ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
জাহিদুর বলেন, “প্রশাসন আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত রিপোর্টের কপি চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশেরও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কুয়েট প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অপরাধ আড়াল করছে এবং তাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুর রহমান তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন— ১. অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে;
২. ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে;
৩. তার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী একাডেমিক জীবন নির্বিঘ্ন করার লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আমি কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন