
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্বাধীন প্রতিদিন
আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লংমার্চের অংশ হিসেবে খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিববাড়ী) ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা সফল করতে গঠন করা হয়েছে ১৭টি উপকমিটি। পাশাপাশি জনসমাগমের শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। কর্মসূচি ঘিরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ২০টি তোরণ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তুতির কথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকা থেকে লংমার্চের গাড়িবহরে এক হাজারের বেশি পাজেরো, হাইয়েস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গাড়িবহরটি সকাল ১১টার মধ্যে খুলনার বাবরী চত্বরের পথসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা। এ জন্য আগত যানবাহনের চলাচল ও সমাবেশস্থলে প্রবেশ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
লংমার্চের প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে পোস্টার, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড তৈরি করা হয়েছে। কুদির বটতলা, রূপসা সেতু, জিরো পয়েন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, গল্লামারী, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, বৈকালী, নতুন রাস্তা, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি, অফিস গেট ও ফুলতলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে মিছিল, গণসংযোগ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির প্রচার চালানো হচ্ছে। এ জন্য শতাধিক মাইকিং ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
পথসভা আয়োজনের জন্য মূল মঞ্চ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সভাস্থলে শব্দব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দুই শতাধিক হর্নসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক ও দূরদূরান্ত থেকে আসা অংশগ্রহণকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। আগতদের সহযোগিতা, সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে তাঁরা কাজ করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে আয়োজকেরা উল্লেখ করেন।
যানজট এড়াতে আগত যানবাহনের জন্য তিনটি প্রধান পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—জোড়াগেট, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ূরী আবাসিক এলাকা। খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসে অংশগ্রহণকারীরা আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। তাঁদের নিরাপদ যাতায়াত ও সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট রুট ও পার্কিং পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা বলেন, লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে নগরবাসী ও ব্যবসায়ীদের সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। এ জন্য তাঁরা আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও খুলনার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম ও প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, ফয়জুল্লাহ ইকবাল শাকিল, ডা. মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী, আব্দুল খালেক শিকদার, খালিদ সাইফুল্লাহ, মো. মনির হোসেন, গাজী শরিফুল ইসলাম (ওহিদ), নূরুল আলম নূর, মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজী (আরিয়ান), মোছাম্মদ জাকিয়া আক্তার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন এবং জাগপার সভাপতি খান মো. রাশেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন