প্রিন্ট এর তারিখঃ May 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 17, 2026 ইং
খুকৃবি-তে বিতর্কিত নিয়োগ ও একাধিক দায়িত্বে আসাদুজ্জামান মানিক: উঠছে গুরুতর অভিযোগ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি | স্বাধীন প্রতিদিন
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) এক সহকারী অধ্যাপককে ঘিরে একের পর এক প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান এবং তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মানিককে স্বল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তাকে ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তাকে শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। একই মাসের ২৬ তারিখে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এছাড়াও, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে পরিবহন শাখার কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সর্বশেষ ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে গঠিত প্রোগ্রাম সেলফ অ্যাসেসমেন্ট কমিটি (PSAC)-তেও তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী হল প্রভোস্ট থাকাকালে তিনি প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেন এবং তাদের উদ্দেশে অমানবিক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠে।
এদিকে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ আছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য তাকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করলেও সাবেক রেজিস্ট্রারের সহযোগিতায় মাত্র একজন সদস্যের সাক্ষরে তৎকালীন উপাচার্য শহিদুর রহমান খান তাকে নিয়োগ প্রদান করেন।
আরও জানা যায়, চাকরির আবেদনে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। সিভিতে তিনি অনার্সে ৬৮.৩৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে সিজিপিএ ৩.৬৮ উল্লেখ করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত রূপান্তর অনুযায়ী তা ৩.৪২ হওয়ার কথা। ফলে তার বিরুদ্ধে সিভিতে ভুল তথ্য প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসাদুজ্জামান মানিকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করে আসছেন যে, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই একমাত্র ‘ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট’ প্রাপ্ত শিক্ষক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়গুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বাধীন প্রতিদিন, এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।