
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্বাধীন প্রতিদিন
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে নির্দেশনা সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, ভোটারসহ সংশ্লিষ্টরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে গোপন কক্ষে ব্যালটে সিল দেওয়ার সময় কোনো ছবি তোলা যাবে না।
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ভোটার, প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে, যেখানে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়, সেখানে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইসি সচিব জানান, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে আগের নির্দেশনা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। সেই বিভ্রান্তি দূর করতেই পরিপত্র সংশোধন করা হচ্ছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। আখতার আহমেদ বলেন, পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে মোবাইল রাখা যাবে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে। বড় আকারের মিছিল, সভা ও শোডাউন নিষিদ্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা বন্ধ রাখতে মনিটরিং করা হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি আলাদা সেল কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তপশিল ঘোষণার পর দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো ঘটনা এখনো ধরা পড়েনি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশ বিলম্ব হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ফল প্রকাশ বিলম্ব হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। যত ব্যালট কাস্ট হবে, সব ব্যালট গণনা শেষ করেই ফল ঘোষণা করা হবে। ভোটারের সংখ্যার তারতম্যের কারণে কোথাও সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে সেটিকে বিলম্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়ে আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন বা আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সবচেয়ে বেশি—২২৩ জন, যা বাড়তে পারে ২৫০ জনে। এছাড়া কমনওয়েলথ, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফইএল), আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশাই নির্বাচন কমিশনের।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন | 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন