
খুলনা প্রতিনিধি │স্বাধীন প্রতিদিন
পাঠক, লেখক, রাজনীতিক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, কবি-সাহিত্যিকসহ সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে খুলনায় দৈনিক আমার দেশ-এর নবযাত্রার প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতে সীমিত পরিসরে আয়োজন হলেও সময়ের ব্যবধানে তা বিশালতায় রূপ নেয়। প্রেসক্লাব অঙ্গন ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল। অন্তত তিন শতাধিক মানুষ আমার দেশ-এর বর্ষপূর্তির আয়োজনে অংশগ্রহণ করে শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠন ও বিভিন্ন মিডিয়া হাউজের পক্ষ থেকে খুলনা ব্যুরো প্রধানের হাতে ফুলের ডালি তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল মাদ্রাসার হাফেজ ছাত্রদের অংশগ্রহণে কোরআন খতম, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, দোয়া মোনাজাত ও কেক কাটা। সকাল থেকে প্রেসক্লাব মসজিদে হাফেজ ছাত্রদের অংশগ্রহণে কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১২টায় খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন-এর সভাপতিত্বে এবং এমইউজের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন— খুলনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি শেখ নাসিরউদ্দিন, খুলনা প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, এমইউজের সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক আহম্মদ হামিম রাহাত।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার কারণে দৈনিক আমার দেশ অতীতে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। এখনও পত্রিকাটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সেনাপতির ভূমিকা পালন করছেন অদম্য দেশপ্রেমিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তারা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে একদিকে কিছু সাংবাদিক লেজুড়বৃত্তি করে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হলেও অন্যদিকে মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, আবুল আসাদ, শওকত মাহমুদ-এর মতো সম্পাদক ও অসংখ্য সাংবাদিক মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের তাবেদররা এখনও শক্তিশালী ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে, যার প্রমাণ অদম্য জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদী-র নির্মম মৃত্যু। এই মৃত্যু প্রমাণ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশবিরোধী সব চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পরে খুলনা প্রেসক্লাব মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ হাবিব দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন। দোয়ায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদদের, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল যোদ্ধার, বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী-র রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান-এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফরাজি, বিএনপি নেতা গাজী তফসির আহমেদ, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, মো. আনিসুজ্জামান, এইচ এম আলাউদ্দিন, আবুল হাসান হিমালয়, কৌশিক দে, মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, আহমদ মুসা রঞ্জু, আশরাফুল ইসলাম নুর, এরশাদ আলী, জিয়াউস সাদাত, মাহবুবুর রহমান মুন্না, আমিরুল ইসলাম, প্রবীর বিশ্বাস, উত্তম মণ্ডল, অভিজিৎ পাল, মাশরুর মুর্শেদ, বশির হোসেন, এম এ হাসান, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, বাপ্পী খান, নাজমুল হক পাপ্পু, সাইফুল্লাহ বাবু, এস এম হাফিজুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসরাফিল হোসেন, এস এম বেলাল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাঈফ নেওয়াজ, আপ বাংলাদেশের ফয়জুল্লাহ শাকিল, শিশু হাসপাতালের সুপার ডা. প্রদীপ দেবনাথ, নজরুল গবেষক সৈয়দ আলী হাকিম, সাহিত্য সংগঠক ও লেখক আজাদুল হক আজাদ, মনিরুজ্জামান মোড়ল, এ জি রানা, সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি খায়রুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, ব্যাংকার্স ইউনিয়ন নেতা খায়রুল ইসলাম লাল, মাহবুব হোসেন, বিদ্যুৎ ইউনিয়ন নেতা আলমগীর হোসেন এবং বড় বাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শামীম খান।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক আমার দেশ খুলনা ব্যুরো অফিসের স্টাফ রিপোর্টার কামরুল হোসেন মনি ও ফটোসাংবাদিক সেলিম গাজী।
📰 আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
www.shadinpratidin.com
💬 মতামত দিন 🔁 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন